বাঞ্ছারামপুরে সরকারি কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ, বাড়িতে লাল নিশানা, পরিবারটিকে লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন,করোনা পরীক্ষায় সেই কর্মকর্তাকে পাঠানো হলো আইইডিসিআরে

1035

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এক সরকারি কর্মকর্তাকে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকতে পারে বলে সন্দেহতাহীতভাবে সনাক্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার বাড়িতে লাল নিশানা টানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই ব্যক্তিকে সনাক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। তার পরিবারকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য সেই সরকারি কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
সরকারি ওই কর্মকর্তা জাকির হোসেন উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আখাউড়া উপজেলার স্থানীর সরকার প্রকৌশল কার্যালয় (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত আছে।  
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন  বলেন, ওই কর্মকর্তার শরীরের করেনাভাইরাসের উপসর্গ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো।
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার স্থানীর সরকার কার্যালয়ের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত ওই কর্মকর্তা ৮/৯দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাজার ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে যান। এর চার পাঁচ দিন পর তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে যান আসেন। গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তা সম্পর্কে জানতে পারে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন ওই কর্মকর্তার বাড়ি যান। পরে তাঁর বাড়িতে লাল কাপড় দিয়ে নিশানা টানানো হয়।  
জাকির হোসেন জানান, আখাউড়া কর্মরত অবস্থায় বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমি কয়জনের সাথে কাজ করেছি,কয়েকদিন আমরা যার যার কক্ষে ছিলাম খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট হওয়ার কারণে গত শুক্রবার আমি বাড়িতে চলে আসি নিজস্বমোটরসাইকেলযোগে,বাড়িতে এসে রোদে কাপড়-চোপড় শুকিয়ে নামাজ পড়ি পরদিন জ্বর অনুভব করলে আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ওষুধ খাই দুইদিন ভালো ছিলাম পরবর্তীতে আমি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানাযই তিনি আমাকে বাড়িতে থাকতে বলেছেন আমার বাড়ি  লকডাউন করে দিয়েছেন,পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে, বাজার করতে পারছিনা আমাদের কেউ খবর নিচ্ছে না। ঘরে খাবারও নেই ঠিক ভাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কিট এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। সেজন্য ওই ব্যক্তিকে আইইডিসিআর-এ পাঠানো হচ্ছে। সেখানেই তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসির উদ্দিন সারোয়ার জানান, ওই কর্মকর্তা তার কর্মরত এলাকায় ইতালী ফেরতদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তখন তাকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। কিন্তু তিনি কোয়ারেন্টিন না মেনে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। সেজন্য সবাইকে সচেতন করতে বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে।