হোমনায় যান চলাচল বন্ধ, বিপাকে রিকসা ও ইজিবাইক চালকরা

570

কি করমু, কিভাবে চলমু আর পরিবাররে খাওয়ামু কি। এভাবে চললে তো বেশিদিন বাঁচতে পারমু না, সরকার আমাদের জন্য কিছু করবেন  না

আর সামনের দিনগুলোতে কিভাবে সংসার চালাবেন এর কোনো সদুত্তর তার কাছে নেই। তিনি বলেন, কি খামু, কেমনে বাঁচুম। যে অবস্থা হইছে না খেয়ে মরতে হইব এভাবেই কথাগুলি বললেন হোমনা সদরের বড় কান্দা গ্রামের আলী আহম্মেদ তিনি আরও বলেন সাধারণ দিনে রিকশা চালিয়ে গড়ে ৭শত থেকে ৮শত টাকা পেয়ে থাকেন। কিন্তু শনিবার উপজেলা শহরের মানুষের চলাচল কম থাকায় অর্ধদিন পাড় হয়ে গেলেও রিকশার ভাড়ার টাকা উঠেনি। মালিকের টাকা দিয়ে বাসায় ছেলে, মেয়ে মা-বাবার জন্য খাবার বাড়িতে পাঠাতে পারব কি না জানি না। সকাল ৮টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১১০টাকা। অন্যদিন এই সময়ে তাঁর রোজগার হতো কমপক্ষে ৩০০-৪০০টাকা টাকা। রিকশার একদিনে ভাড়া ২০০টাকা।

এটি শুধু আলী আহম্মেদ একার অবস্থা নয়। হোমনা উপজেলার কয়েকশত  রিকশা চালক ও ইজিবাইক চালকেরও রহমতের মতো একই অবস্থা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ও প্রতিরোধে উপজেলার সকল সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠ নের পাশাপাশি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।  এর কারণে উপজেলায় মানুষের আনাগোনা কমেছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে দিনমজুর ও খেঁটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগারে।

উপজেলার বাবরকান্দি এলাকার ইজিবাইক চালক কবির হোসেন  বলেন, সকাল থেকে বেলা  দুইটা পর্যন্ত মাত্র ২০০টাকা রোজগার করেছি। অন্যদিন এই সময়ে ৫০০-৬০০টাকা রোজগার করতে পারি। স্ত্রী, এক ছেলে ও তিনসহ ছয় জনের সংসার কিভাবে চালবে। এলাকায় মানুষই নাই। মানুষ না থাকলে কেডা রিকশাত উঠব। তিনি বলেন, রিকশা না চালাতে পারলে সংসারের বাজারের টাকা কই পামু। আমরা গরীবের লাইগ্যা  করোনা তো কোনো করুনা করত না।

মাথাভাঙ্গা কাঠেরপুল  এলাকায় রিকশায় বসে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন নিলখী এলাকার বাসিন্দা রিকশা চালক শফিক মিয়া। তিনি বলেন, ৪০হাজার টাকায় কিস্তিতে রিকশাটি কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে ৬০০টাকা করে কিস্তি দিতে হয়। এখন পর্যন্ত আটটি কিস্তি দিয়েছি। তিনি বলেন, সকাল থেকে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত মাত্র ১৩০টাকা রোজগার  করতে পেরেছি। কিন্তু অন্যদিন এই সময়ে ৪০০-৫০০ টাকা রোজগার হয়ে যেত। কাল থেকে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দিন কাটাতে কষ্ট হবে। শফিক জানতে চাই, সরকার তাদের জন্য কিছু করবেন কি না।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত উপজেলার চৌরাস্তা, হাসপাতাল মোড়, পুরাতন বাসষ্ট্যন্ড, নতুন বাসষ্ট্যন্ড, সিনাই মোড়, মাথাভাঙ্গা কাঠেরপুল, ঘারমোড়া বাজার এলাকা, রামকৃষ্নপুর এলাকায় ঘুরে মানুষের চলাচল তেমন চোখে পড়েনি। অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ ছিল।  এদিকে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম এড়িয়ে চলতে এবং দোকানপাট বন্ধ রাখতে মাইকিং করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব  ডা. আঃ ছালাম সিকদার জানান,  জনসমাগম এড়িয়ে চলতে উপজেলায় প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। । আশার বানী হচ্ছে জেলায় এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ সনাক্ত হয়নি। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ২৬৫ জনের মধ্যে  বর্তমানে ৩৮ জন আছে।