বাঞ্ছারামপুরে বিধবাকে ধর্ষণ চেষ্ঠার ঘটনা ৩০হাজার টাকায় দফারফা!

676

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের চরছয়ানী গ্রামের ৪ সন্তানের জননী(৪২) এক বিধবাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্ঠার ঘটনা সালিষ বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাম্য মাতাবর ৩০হাজার টাকায় দফারফা করার অভিযোগ উঠেছে।গত বৃহস্পতিবার বিধবার বাড়ীতে এই সালিষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষণ চেষ্ঠাকারী প্রভাবশলী আলী হোসেন (৪৫) চরছয়ানী গ্রামের মরহুম ফিরোজ মিয়ার ছেলে। গত ২৫ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় চরছয়ানী গ্রামে এই ধর্ষন চেষ্ঠার এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আইয়ূবপুর ইউনিয়নের চরছয়ানী গ্রামের মৃত দিনমুজুরের স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী(৪২) গত বুধবার বিকেলে তার বোরো  জমিতে পানি দিতে যায়, সন্ধায় বাড়ি ফেরার পথে আলী আহম্মেদ তাকে পথরোধ করে ধর্ষনের চেষ্ঠা করেন এই সময় মহিলা কোন রকমে তার হাত থেকে পালিয়ে আসে এই ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল আলী আহম্মেদেও পক্ষ নিয়ে ধর্ষনচেষ্ঠার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে এবং গত বৃহস্পতিবার বিধবার বাড়ীতে সকল ১১টার দিকে এক সালিষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সালিষে উপস্থিত ছিলেন আইয়ুবপুর ইউনিয়ন যবলীগের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আঃ রহিম, আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে মহিলা সদস্য আসমা আক্তার, মজিদ সওদাগরসহ কয়েকজন সালিষ বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাম্যমাতাব্যরা আলী আহম্মেদকে ৩০হাজার টাকা জড়িমানা ও ১শত জুতাপিটা করার রায় করেন, সালিষে বিধবা নারী নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকী ১০ হাজার টাকা দুইদিন পরে দেওয়ার সিদ্ন্ত হয়।  এর আগেও আলী আহম্মেদ বিধাব মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল তাতে সে রাজি না হওয়ায় তার হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরছয়ানী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, আমাদের এলাকার  মাতাব্বরদের বিচার ব্যবস্থা ভাল না। আইনের কাজ গ্রামের লোকজন কি করে করে? মাতাব্বরা আলী হোসেনের কাছ থেকে টাকা খেয়ে এমন জঘন্যতম বিচার করেছেন।

যৌন নিপীরনের শিকার বিধবা নারী বলেন, আমার জমিতে পানি দিয়ে বাড়ী ফেরার পথে আলী আহম্মেদ আমাকে একা পেয়ে আমাকে জাপটে ধরে এবং ধর্ষনের চেষ্ঠা চালায় আমি তাকে একাধিকবার বাবা পযন্ত ডাকি পরে কোন রকমে ছারা পেয়ে বাড়িতে আসি, আমি অনেকের কাছে বিষয়টি জানাই, গত বৃহস্পতিবার আমার বাড়িতে রহিম মেম্বার সুজন,স্বপস,মজিদ সওদারগর আসমা মেম্বারসহ অনেক উপস্তিতিতে সালিষ করে ,সালিষে আলী আহম্মেদকে ৩০হাজার টাকা জড়িমানা ও ১শত জুতামারার রায় দেয়, আমাকে ২০হাজার টাকা দিয়েছে বাকি ১০হাজার টাকা ২দিন পরে দিবে।

এব্যাপারে স্থানীয় আইয়ূবপুর ইউনিয়ন পরিষদেও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, বিধাব নাড়ীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এলাকাবাসী শালিস করে আলী হোসেনকে একশো জুতা মেরেছি এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। ইত্যিমধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে এবং বাকী ১০ হাজার টাকা দুইদিন পরে দিবে।এই সময় যুবলীগের সভাপতি স্বপন,সুজন,মজিদ সওদাগর,আসমা মেম্বারসহ কয়েকজন মিলে এই বিচার করে দিয়েছি।

আইয়ুবপুর ইউনিয়ন যবলীগের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান সুজন বলেন, আলী হোসেন ওই মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্ঠা  করেনি, মহিলার হাত ধরেছে মাত্র আমরা বসে আলী আহম্মেদকে ১শত জুতা ও ৩০হাজার টাকা জড়িমানা করেছি।

আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চরছয়ানি গ্রামে ধর্ষণচেষ্ঠার ঘটনা আমি শুনেছি,তবে কেউ আমার কাছেঅভিযোগ করেনি ,অভিযোগ করলে আমরা আইনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।