হোমনার পঞ্চবটী-মিরাশ-বাবরকান্দি সড়ক ১২বছরেও সংস্কার না হওয়ায় ৯ গ্রামের ১২হাজার মানুষের দূর্ভোগ

1251

কুমিল্লার হোমনায় পঞ্চবটী-মিরাশ-বাবরকান্দি সড়কের ৬কিলোমিটার রাস্তা ১২ বছর যাবৎ উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে ৯ গ্রামের ১২ হাজার মানুষ। কয়েক দফায় দরপত্র আহবান করা হলেও ঠিকাদার কাজ না করায় রাস্তার এই বেহাল দশা। দীর্ঘদিন রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।অনেক জায়গায় কার্পেটিং, ইট উঠে গিয়ে মাটির বের হয়ে গেছে। রাস্তায় প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা,হতাহতের ঘটনা ঘটছে নিত্যদিন। বিকেল হলেই এই রুটে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ।এলাকাবাসীর দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবী জানিয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি,অযোদ্বানগর,মিরাশম্পকনগর,নিলখী,ইটাভরা,শ্যামনগর,উলুকান্দি, কলাকান্দি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা পঞ্চবটী- মিরাস-বাবরকান্দি সড়কের ৬কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশা। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে,অনেক জায়গায় পুরু অংশ ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কের সংস্কার কাজের কয়েক দফা দরপত্র আহবান করা হলেও ঠিকাদার কাজ পেয়েও রহস্যজনক কারণে কাজ না করায় ৬কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে দরপত্র আহবান করা হয় কিন্তু ঠিকাদার কাজ পেলেও ঠিকাদার এই রাস্তা সংস্কার কাজ না করে জামানত উঠিয়ে নিয়েছে। সরেজমিনে পঞ্চবটী-মিরাস-বাবরকান্দি গিয়ে দেখা গেছে, বাবরকান্দি বাজার থেকে পঞ্চবটী যাওয়ার রাস্তা একটু পরপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার দুই পা শে অর্ধেকেরও বেশি কার্পেটিংসহ ইটের খোয়া ধ্বসে গেছে। চম্পকনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সামনে রাস্তা ধ্বসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর একটু দক্ষিণ পার্শে রাস্তার দুই পার্শে ধ্বসে গিয়ে একাধিক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চম্পকনগর গ্রামের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন এই রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। একাধিকবার এই রাস্তার টেন্ডার হলেও ঠিকাদার কাজ না করায় রাস্তার এই বেহাল দশা হয়েছে। ৯ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি। রিকসা চালক জীবন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে,ঝুকি নিয়ে রিকসা চালাচ্ছি প্রায়ই দূঘটনার স্বীকার হচ্ছি সন্ধার পর এই রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সিএনজি চালক জিহাদ মিয়া জানান, এই রাস্তায় যখন গাড়ী চালাই তখন ভয়ে থাকি কখন যেন গাড়ী উল্টে যায়। প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। নিলখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু হানিফ জানান, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। রাস্তাটিতে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুকি নিয়ে চলাচল করছি। আমিও কয়েকবার দূর্ঘটনার শিকার হয়েছি। নিলখী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার জালাল উদ্দিন জানান, এলাকার মানুষের দূর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই রাস্তাটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় যান চলাচল করতে পারছেনা ঠিক ভাবে, ঝুকি নিয়ে চলছে যান- বাহন। আমি একাধিকবার ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে বলেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ জুনায়েদ আফসার চৌধুরী জানান,এই রাস্তার টেন্ডার জেলা থেকে করা হয়, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার আহবান করা হবে। আগে কয়েকবার ঠিকাদার কাজ পাওয়ার পর কেন কাজ করেনি সেটা আমার জানা নেই।