বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধু নার্গিস আক্তার হত্যা সাড়ে ছয়মাস পর মামলা দায়ের, স্বামী সহ গ্রেফতার-৩

308

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে রূপসদীর গৃহবধু নার্গিস আক্তার (৩০) কে শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগে সাড়ে ছয় মাস পর বাঞ্ছারমাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য প্রমান মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। গৃহবধু নার্গিস আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগে তার স্বামী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত বুধবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত গৃহবধু নার্গিস আক্তারের ভাই রাহিন মিয়া। এই ঘটনায় গত বুধবার রাতে পুলিশ নার্গিস আক্তারের স্বামী ফরিদ মিয়া (৪০), ভাশুর কামাল মিয়া (৪৩), দেবর রাজা মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে। গত ২০১৮সালে ৫ই ডিসেম্বর রূপসদী দক্ষিণ পাড়ার সরকার বাড়িতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে নার্গিস আক্তারকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে উপজেলার রূপসদী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার সরকার বাড়ির সুলতান মিয়ার ছেলে ফরিদ মিয়া গত ১২ বছর আগে পাশের নবীনগর উপজেলার দীর্ঘশাইল গ্রামের শিরন মিয়া মেয়ে নার্গিস আক্তরকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৪ সন্তান রয়েছে। গত ২০১৫ সালে ফরিদ মিয়া শিল্পী বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নার্গিস আক্তার কে স্বামী, ভাশুর দেবররা নির্যাতন করে আসছিল।গত ২০১৮ সালে ৫ই ডিসেম্বর রাতে স্বামী, ভাশুর, দেবর ও দ্বিতীয় স্ত্রী মিলে নার্গিস আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে রিপোর্টে তথ্য প্রমান পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নার্গিস আক্তারের ভাই রাহিম মিয়া বাদী হয়ে গতকাল বুধবার বাঞ্ছারামপুর থানায় নার্গিস আক্তারের স্বামী ফরিদ মিয়া এবং তার দুই ভাই ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বুধবার রাতে রূপদসী গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্বামী ফরিদ মিয়া ও তার দুই ভাই কামাল মিয়া ও রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণে করেছে। বাঞ্ছারমাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সালাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ জানান,‘‘ গৃহবধু নার্গিস আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেরণ করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার বিষয়টি আসলে তার ভাই রাহিন মিয়া গৃহবধুর স্বামী, দুই ভাই ও দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। পুলিশ স্বামী ও দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে।