বাঞ্ছারামপুরে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে যুবলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ

919

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ঘরে ঢুকে প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত একটার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ওই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে ও সলিমাবাদ ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল।
আহত ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল আউয়াল (৬০), মো. কামরুজ্জামান (৩৭), মনির হোসেন (৩৫) ও করিম মিয়া (৪০)। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ এঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার বুরবুরিয়া গ্রামের সাহেদুল ইসলাম (৩৬) ও আমির ইসলাম ৩৫) এবং পাইকারচর গ্রামের রাজীব আহমেদ (৩৯) ও একই গ্রামের বাবুল মিয়া (৩৫)।
এদিকে হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভগ্নিপতি একই ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক হওয়া পাইকারচর গ্রামের রাজীব আহমেদ (১৮) ও বাবুল মিয়াকে (৪৩) এজহার নামীয় আসামী করা হয়।
স্থানীয় লোকজন, মামলার এজহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ছয় নম্বর ওয়ার্ড) ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অলি মিয়ার সঙ্গে সলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত সোমবার রাতে পাইকাচর গ্রামের পাহাড়ার দায়িত্বে ছিলেন নিহত সুমন, কামরুজ্জামান, মনির, আউয়াল ও বাবুল। রাত একটার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে নিহত সুমনসহ বাকিরা একই গ্রামের অলি মিয়ার সমর্থক দানা মিয়ার বাড়ির দুচালা টিনের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় ইকবালের নেতৃত্বে ৩০-৩২ জন লোক দেশীয় অস্ত্র পিস্তল, টেঁটা, রামদা, বল্লম, লোহার রড, কাঠের রোল, হকিস্টিক অতর্কিতভাবে দানা মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় ইকবার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে সুমনকে বুকের বামপাশে ও মামলার দুই নম্বর আসামী হানিফ আরেকটি পিস্তল দিয়ে সুমনের ডান পায়ের গোড়ালি উপরে গুলি করে। অন্যান্য আসামীরা রামদা দিয়ে সুমনকে শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে আহত করে। এসময় সুমনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে কামরুজ্জামান, মনির, আউয়াল ও বাবুলকে তাঁরা কুপিয়ে জখম করে। মামলার ১৫ নম্বর আসামী কুমিল্লা হোমনার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম আউয়ালের ডান হাতের বাহুতে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। পরে অন্যান্য আসামীরা তাদেরকে টেঁটা, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। তাদের শোরচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুমনসহ বাকীদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহত বাকি চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় লোকজন বলেন, হামলায় খুন হওয়া সুমনসহ আহত সবাই ইউপি সদস্য অলি মিয়া সমর্থক। তাঁরা সলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবালের বিরোধী পক্ষের লোক।
নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের বাম বুকের পেটের চার ইঞ্চি উপরে ছিদ্রযুক্ত গুলির দাগ, ডান পায়ের গোড়ালির চার আঙ্গুল উপরে গুলি দাগ এবং এর উপরে ছিদ্রযুক্ত দাগ রয়েছে। বাম পায়ের গোড়ালির গোছির মধ্যে চার ইঞ্চি পরিমান গভীর কোপের দাগ এবং এর চার ইঞ্চি উপরে চার ইঞ্চি লম্বা গভীর কোপের দাগ এবং বামপাশের নিতম্ভের উপরে চার ইঞ্চি গর্তের কোপের দাগ।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অলি মিয়া বলেন, নিহত সুমন সলিমাবাদ ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। এলাকার রাজনীতি নিয়ে ইকবালের সঙ্গে খুন হওয়া সুমনসহ আহত বাকিদের বিরোধ রয়েছে। কারণ তারা ইকবালের কথা শুনত না এবং ইকবালের সমর্থক ছিল না। তিনি বলেন, তবে আমার সঙ্গে ইকবালের কোনো বিরোধ নেই।
এ বিষয়ে গত দুইদিন একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদি নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুল জলিল জানান, পুলিশ ঘটনার দিন রাতে ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। তাঁরা সুমনকে হত্যার জন্য পরিকল্পিতভাবে গুলি করে সুমনকে হত্যা করেছে।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি বাদী হয়ে ২৬জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের মধ্যে আটক ৪জনের মধ্যে দুইজনকে এজহার নামী আসামী করা হয়। গুলির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে নিহতের বাড়ি থেকে পুলিশ গুলির কোনো খোসা উদ্ধার করেননি বলে জানান তিনি। তিনি জানান, নিহত সুমনকে খুন করার উদ্দেশ্যই তারা এ হামলা চালিয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।