হোমনায় এলজিইডির ৩৫কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা

90

৬/৮ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এলজিইডির প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দেক হয়ে যানচলাচল মারাত্বকভাবে ব্যহত হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে ওইসব রাস্থা সংস্কার না হওয়ায় বেহালদশা এই সড়কগুলির, ঝুঁকি নিয়ে এইসব সড়কে চলছে যানসমুহ, এই সকল সড়কে প্রতিদিন কয়েকশ সিএনজি অটোরিক্সা, ইজিবাইক,মাইক্রোবাস,পিকআপ,ট্রাক, রিক্সা চলাচল করে। আর তাতে অন্তত কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়ত করেন।এই সড়ক দিয়ে এই এলাকার লোকজন ও ব্যবসায়ীরা তাদেও মালামাল আনা নেওয়া করে। রাস্তা ভাঙ্গাচোরা হওয়ার কারনে পণ্যবাহী যানসমুহ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা ।পুরো রাস্থা জুড়ে খানা খন্দকের কারনে যান চলাচল মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। রাস্থার বেহাল দশার কারনে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে যানবাহনের চালকদের বিরুদ্বে।প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রীরা এই রুটে চলাচল করছে,রাস্তা ভাঙ্গাচোরা হবার কারনে প্রায়ই ঘটছে দুরঘটনা। রাস্থার বেহালদশার কারনে সন্ধার পর অনেক রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এই সকল সড়কে ৬/৮ বছর ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
হোমনা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে,উপজেলার এলজিইডর পাকা রাস্তা রয়েছে ১২০ কিলোমিটার,এর মধ্যে ৩৫কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে ভরা। হোমনা-চান্দেরচর-রামকৃষ্নপুর সড়কে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১১ কিলোমিটার রাস্তায় খানাখন্দে ভরা , কাশিপুর-শ্যামপুর সড়কে ৫ কিলোমিটার, মিরাশ-চম্পকনগর-বাবরকান্দি সড়কেরর ৬ কিলোমিটার, কলাগাছিয়া-মনিপুর-কাশিপুর সড়কের ৫ কিলোমিটার, ঝগরারচর নদীর ঘাট থেকে হোমনা –বাঞ্ছারামপুর সড়ক পযর্ন্ত ৩কিলোমিটার রাস্তা,হোমনা পুরাতন বাসস্টান্ড এলাকা থেকে শ্রীমদ্দী নদীর পার পযনর্ন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা ।
সরেজমিনে শনিবার বাগমারা পূর্বপাড়া মোড় থেকে কালমিনা,মঙ্গলকান্দি,আসাদপুর, কলাগাছিয়া মনিপুর,চান্দেরচর সড়ক এলাকা গিয়ে দেখা গেছে কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও রাস্তার দুই পার্শ্ব ভেঙ্গে গেছে। বাগমারা মোড় থেকে ভাঙ্গাচোরা শুরু ২০-৩০ মিটার পরপরই রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও কলাগাছিয়া থেকে চান্দেরচর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার বেশীরভাগ অংশ কার্পেটিং উঠে ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় রয়েছে।,হোমনা পুরাতন বাসস্টান্ড এলাকা থেকে শ্রীমদ্দী নদীর পার পযনর্ন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা রাস্ত্ার কাপেটিং উঠে গিয়ে গর্তেও সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল মারাত্বক ভাবে ব্যবত হচ্ছে। মিরাশ থেকে বাবরকান্দি পযন্ত রাস্তায় কাপেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে,কাশিপুর- শ্যামপুর সড়কে কাপেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে,ঝগরারচর নদীর ঘাট থেকে হোমনা –বাঞ্ছারামপুর সড়ক ৩কিলোমিটার পযর্ন্ত রাস্তার বেহাল দশা,কাপেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃস্টি হয়েছে, সন্ধার পর এই রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী।
আসাদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তায় প্রতিনিয়তিই দূর্ঘটনা ঘটছে, আমরা এলাকাবাসি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কাছে বহুবার বলেছি রাস্তার সংস্কার করতে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই দুই-একবার করে গাড়ি উল্টাইয়া পড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, গত একমাসে অন্তত ৪০-৪৫টি দূর্ঘটনা ঘটেছে এই এলাকায়।
চা›দেরচর বাজারের ব্যাবসায়ি মো. কবির হোসেন বলেন, রাস্তা ভাঙ্গা হওয়ায় ট্রাক-পিকআপ অনেক রাস্তা ঘুইরা চা›দেরচর আসতে হয় সেজন্য ওইসব গাড়ির ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুন পরিশোধ করতে হয়।
সিএনজি অটোরিক্সা চালক রমজান আলী বলেন, ‘আমার গাড়িটি চম্পকনগওে রাস্তায় গর্তে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে পরে গেরেজে নিয়া গাড়ি ঠিক করাইতে হইছে গতদুইনি আগে।প্রায়ই ঘটছে দুরঘটনা সন্ধার পর এই রুটে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার মোল্লা বলেন, অনেক বছর ধরে রাস্তাটিতে কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ভাঙ্গার কারনে এই রাস্থায় চলাচল করা অনেক কষ্টের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকার মানুষ।
মনিপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, রাস্তা ভাঙ্গাচোরা থাকার কারনে আমাদের যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে,এই রাস্তাটি গত ৫/৬ বছর ধরে সংস্কার করা হয়নি,এই রুটে প্রতিধিন শতশত যানবাহনও হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করে। দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি ।
বাবরকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জানান,রাস্তা খারাপ হবার কারনে মালামাল আনতে গাড়ির চালকরা বেশী ভাড়া দাবী করছে,আমরা বাধ্য হয়ে বেশী ভাড়া দিয়ে মালামাল আনতে হচ্ছে,আমারা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, রাস্তা সংস্কার না করলে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
শ্রীমদ্দী গ্রামের সিএনজি অটোরিক্সা চালক মো. শাহআলম বলেন, হোমনা থেইক্কা শ্রীমদ্দ পর্যন্ত রাস্তায় যেই বড় বড় গর্ত অইছে হের লাগি সিএনজি গাড়ি সপ্তায় ৪-৫ দিন গেরেজে নিয়া ঠিক করান লাগে,অনেক বছর ধরে এই রাস্থা সংস্কার করা হয়নি,এই রাস্থায় যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। রাস্থা খারাপ হবার কারনে সন্ধার পর যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ জুনায়াদ আফছার চৌধুরী বলেন, হোমনার অনেকগুলি রাস্তার অবস্থা ভাল নয়,এইসব রাস্থা সংস্কারের জন্য আমরা প্রস্থাব পাঠিয়েছি, আশা করি কিছুদিনের মধ্যে এই রাস্থার কাজ শুরু করা যাবে।