তিতাসের মজিদপুর গ্রাম গরুর বাছুর মারা যাওয়ার ভয়ে দুইশত’বছরের বেশি সময় ধরে দুধ বিক্রি করে না গ্রামবাসী

161

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাপ-দাদার আমল থেকে গরুর দুধ বিক্রি বন্ধ আমাদের এখানে, গরুর দুধ বিক্রি করলে গরুর বাছুর মারা যাবে এই কারনে আমরা গরুর দুধ বিক্রি করি না, দুই”শত বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের এখানে কেউ গরুর দুধ বিক্রি করে না, গরুর দুধ বিক্রি করলে গরুর বাছুর মারা যাবে আমরা এখনও বিশ্বাস করি, এই কারনে আমাদের পাড়ার কেউ গাভীর দুধ বিক্রি করে না,অনেক আগে দুধ বিক্রি করার কারনে বাছুর মারা গিয়ে ছিল এর পর থেকে আমাদের পূর্ব পুরুষদের মত আমরাও দুধ বিক্রি করিনা এভাবে কথাগুলো বলেন কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার মজিদপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার আসক মিয়া, আসক মিয়ার মত আরো ৮০টি পরিবার গাভীর দুধ বিক্রি করেন না বাছুর মারা যাওয়ার ভয়ে। এই গ্রামের লোকজন এই কুসংস্কার বিশ^াস করে দীর্ঘ দুইশত বছরেরও বেশী সময় ধরে দুধ বিক্রি করেন না বাছুর মারা যাওয়ার ভয়ে।
সরেজমিন শুক্রবার মজিদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ৮০টি পরিবার বসবাস করে,এদেও মধ্যে বেশির ভাগ পরিবারের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম গরু মোটাতাজাকরনের ব্যবসা, দুধ বিক্রি করতে না পারার কারণে এখন বেশিরভাগ পরিবার গাভী লালন পালন বন্ধ করে দিয়েছে, এখন ২৫/৩০পরিবার রয়েছে যারা গাভী লালন পালন করছে,এই সকল গাভীর যে পরিমাণ দুধ পাচ্ছে প্রয়োাজনের বাকি দুধ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন । গ্রামবাসীর ধারনা তাদের পূর্বপুরুষরা গরুর দুধ বিক্রি করার কারণে বাছুর মারা গেছে এই ভয়ে তারা আজও গরুর দুধ বিক্রি করেনা।

মজিদপুর দক্ষিণপাড়ার কফিল উদ্দিন জানান আমাদেও গ্রামে আগে বিয়ের কাবিন হতনা স্বামী মারা যায় এই ভয়ে গত কয়েক বছর যাবত বিয়েতে কাবিন হচ্ছে,আর এখনও পূর্বপুরুষরা গরুর দুধ বিক্রি করার কারণে বাছুর মারা যেতে এই ভয়ে আজও গরুর দুধ বিক্রি করিনা, গাভী থেকে যে পরিমাণ দুধ পাই তা থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বাঁকিদুধ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে দিয়ে দেই, ২০০শত বছরের বেশি সময় ধরে এই অবস্থা চলে আসছে আমাদের পাডায়।
মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন সরকার জানান,এটা গ্রামবাসীর ভুল ধারনা দুধ বিক্রি করলে বাছুর মারা যাবে এটা ঠিক না,এটা কুসংস্কার এই যুগে এই বিশ^াস করার সুযোগ নেই।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান মিয়া জানান,এটা একটা ভ্রান্ত ধারনা দুধ বিক্রি করলে বাছুর মারা যাবে,আমি এলাকায় গিয়েছিলাম তাদের টেনিং এর ব্যবস্থা করে তাদের এই ধারনা থেকে বের করতে হবে।
অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আমীন জানান,ইসলামে কুসংস্কারের কোন ভিওি নেই,এটা তাদেও ভুল ধারনা যে দুধ বিক্রি করলে বাছুর মারা যাবে,এই ধরনের বিষয় বিশ^াস করাও ইসলাম ধর্মে সমর্থন করেনা।
তিতাস উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জানান রাশেদা আক্তার বলেন,শিক্ষিত সমাজে এই ধরনের কথা হাস্যকর,আমি প্রানী সম্পদ কর্মকর্তাকে বলেছি মজিদপুর যেয়ে তাদের ঝুজাতে এবং প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে,বর্তমান সময়ে কুসংস্কারের উপর বিশ^াস করার সুযোগ নেই।